এটি প্রায়শই বলা হয়ে থাকে যে “লাঠি এবং পাথর আপনার হাড় ভেঙে দিতে পারে, তবে কথা আপনাকে কখনই আঘাত করতে পারে না”। এই কথাটি কিছু লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, বিজ্ঞানের দ্বারা এটি সমর্থনযোগ্য নয়। শারীরিক নির্যাতন চিহ্নিত করা সহজ, তবে মানসিক নির্যাতন স্পট করা মুশকিল।
তাহলে মানসিক নির্যাতন কিভাবে সনাক্ত করবেন?
মানসিক নির্যাতন কার্বন-মনোক্সাইডের মতো: এটির কোনও স্পষ্ট আকার নেই যা আমরা দেখতে পারি, তবে এটি হতে পারে মারাত্মক। মানসিক নির্যাতন আসলে আপনার মস্তিষ্কের সুষ্ঠ কাঠামো তৈরির অন্তরায় হতে পারে। মানসিক নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা হিপোক্যাম্পাস সঙ্কুচিত হওয়ার সমস্যায় পড়তে পারেন।
হিপোক্যাম্পাস হচ্ছে, মস্তিষ্কের একটি অংশ যা জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হিপোক্যাম্পাস আপনার স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে সাহায্য করে। শেখার প্রসেসে, স্বল্পমেয়াদী মেমরি ধরে রাখা হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপ। আপনার মস্তিষ্কের যে কোনও তথ্যের টুকরোটি প্রথমে আপনার স্বল্প-মেয়াদী মেমোরি সংরক্ষণ করে এবং পরে তা স্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয় বা মেমোরি থেকে মুছে ফেলে।
স্বল্প-মেয়াদী মেমরির গুরুত্ব
স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি ছাড়া জ্ঞান আহরণ করা অসম্ভব। হিপ্পোক্যাম্পাসের এই ক্ষয়ক্ষতি বুদ্ধিমত্তা গঠনের জন্য এত বড় ভূমিকা রাখে যা বিজ্ঞানীদের অবিভুত করেছে। আপনি যখন স্ট্রেস বা চাপের মধ্যে থাকেন তখন আপনার দেহ করটিসোল নামে একটি স্ট্রেস হরমোন তৌরি করে।
গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে করটিসোল হিপোক্যাম্পাসে থাকা নিউরনে আক্রমণ করে এবং এটি আকার হ্রাস করতে সাহায্য করে। সুতরাং, আপনি যত বেশি চাপযুক্ত হবেন, তত বেশি করটিসোল প্রডিউস হবে এবং হিপোক্যাম্পাস আরও সংকুচিত হতে থাকবে।
মানসিক নির্যাতন দ্বারা প্রভাবিত মস্তিষ্কের আরও একটি অংশ হ’ল অ্যামিগডালা। মানসিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা ক্রমাগত উদ্বেগ এবং ভীতিতে থাকে। এই দীর্ঘমেয়াদী মানসিক নির্যাতনের ফলে তাদের অ্যামিগডালার অভাব ঘটে।
অ্যামিগডালা
এটি মস্তিষ্কের এই অংশটি যা আপনার শ্বাস এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। এটি আপনার ইমোশনাল কন্ট্রোল সেন্টারও নির্ধারণ করে যে আপনি কীভাবে প্রেম, লালসা, ঘৃণা, এবং ভয়ের মতো অনুভূতিগুলি প্রক্রিয়া করেন। যখন কেউ মানুষিক নির্যাতনের মধ্যে থাকে, তার অ্যামিগডালা ক্রমাগত সতর্ক থাকে এবং অপব্যবহারের সামান্যতম চিহ্নটিতে প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলস্বরূপ, ক্ষতিগ্রস্থরা সবসময় একটি অস্থিরতার মধ্যে কাটায়।
লাঞ্ছনা, চিৎকার সহ সকল মানুষিক নির্যাতন মস্তিষ্কের জন্য ধ্বংসাত্মক, বিশেষত যাদের মস্তিষ্ক বিকাশের পথে রয়েছে। এক রিসার্চে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে কিছু সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের মস্তিষ্কের ডান এবং বাম দিকের সংযোগ ঘটাতে অপারগ ছিল কারণ তারা কৈশোরে বুলিইং এর শিকার হয়েছিল।