
এবারের SSC পরীক্ষায় যারা সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে জানানোর নানান স্টেটাসের ভারে আমার ফেইসবুকের ওয়াল ভেঙে পড়ার উপক্রম। অবশ্যই, এটি শেয়ার করার মতো একটি খুশির খবর, বিশেষ করে পিতামাতার জন্য। তাদের সকলকে আমিও জানাই। বিশেষ করে, SSC পরীক্ষায় সন্তানদের সাথে পিতামাতার সাপোর্ট একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। কাজেই সেই সকল বাবামা’দেরও।
কিন্তু যারা তাদের SSC পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে তাদের কি হচ্ছে আজ? বিশেষ করে, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের হয়তো মাথাব্যথা নেই। আমি চিন্তা করেছি সেই সকল সন্তানদের পিতামাদের কথা, তারা এখন কেমন আছেন? SSC পরীক্ষা জীবনের একটি বড় মাইলস্টোন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও আমি চিন্তিত।
আর, তোমরা, হ্যা, তোমরা যারা এবার পাশ করতে পারোনি। আর সেই সকল পিতামাতারা যারা ভেঙে পড়েছেন, তাদের জন্য আমার এই এক সিঁকি লেখা।
বাংলাদেশ সরকারের এডুকেশন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার্থীর বয়স মিনিমাম ১৪ বছর হতে হবে। আমার মেয়ের বয়স এখন পনেরো। সে আগামী বছর ইনশা আল্লাহ ও-লেভেল দেবে। ২০২৩ সালের মে মাসে সে হবে ষোলো ইনশা আল্লাহ। এই হিসেবে ধরলাম আপনার সন্তানের বয়স ১৫ কিংবা ১৬ বছর। এসএসসি পর রয়েছে এইচএসসি। তারপর ৪ বছর উনি। তাহলে আজ যদি তার বয়স ১৫ বছর হয়, এবং সে এবছর পাশ করেনি, তাহলে আগামী বছর পাশতো সে অব্যশই করবে ইনশা আল্লাহ, তখন তার বয়স হবে ১৬। সব মিলিয়ে স্নাতক শেষ করতে করতে ধরলাম তার বয়স হলে ২২ বছর (যদি কোনো সেশন জট না থাকে)।
এখন আমারা ২০২৩ সালের সাথে আরো ৭ বছর যোগ করলে হবে, ২০৩০ সাল। এখন একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে, ২০৩০ সালে বিশ্ব এবং চাকরির বাজারটি কেমন হবে তা সত্যিই কেউ জানেন না। তাই, অনেক রিসার্চ বলে, আজ যুবকদের কী শিখাতে হবে তা এখনও কেউ সঠিক ভাবে জানে না। ফলস্বরূপ, সম্ভবত বর্তমানে স্কুলে যা শিখানো হয়, তার বেশির ভাগই আপনার সন্তাদের বয়স ৩০ হওয়ার মধ্যেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। সুতরাং কালের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত একটি বিশেষ জায়গায়ই, আর সেটা হচ্ছে, মানসিক ভারসাম্য এবং সংবেদনশীল বুদ্ধি বিকাশের দিকে। আমার ফোকাসও ওই একি দিকে। আমায় আমার মেয়ের মানসিক বিকাশের দিকে GPA-5 এর চাইতে আমার বেশি মনোযোগ।
এখন এটা যদি চিন্তা করেন, তাহলে আপনার সন্তান যদি আজ SSC পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে থাকে, তাহলে আপনি ভেঙে পড়বেন না, আর আপনার সন্তানদেরও ভেঙে পড়তে দেবেন না। মনে রাখবেন, পরীক্ষার ভালোমন্দের চাইতে আপনার সন্তানের জীবন আপনার কাছে মহামূল্যবান। তাদের উপর রাগ করবেন না। অন্য ছাত্রদের সাথে তাদের তুলনা করবেন না। তাদের “ইনশা আল্লাহ আবার চেষ্টা করবে” এরকম মানসিকতা দিন। তাদের আরও ভাল অধ্যয়নের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করুন। পরবর্তী সময়ের জন্য তাদের অগ্রগতি ট্র্যাক করুন, সব কিছু টিচার বা কোচিং এর উপর ছেড়ে দিবেন না । তাদের ব্যর্থতা বা ভুলগুলোকে তাদের মালিক হতে দিন, আপনি তাদের উপর ভরসা করতে শিখুন। তাদের এটা পরিষ্কার করে দিন যে, প্রত্যেকে কখনও বা কখনও ব্যর্থ হয় এবং এই একটি ব্যর্থতা তাদের সংজ্ঞায়িত করে না।
ঐতিহ্যগতভাবে, আমরা জীবনকে দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত করা করি তথা শিক্ষার সময়, তার পরে কাজ করার সময়কাল। সুতরাং এই অনন্তকালীন ঝড়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা করার জন্য এবং খুব উচ্চ স্তরের মানসিক চাপ মোকাবেলা করার জন্য আপনার সন্তানদের তৈরী করুন। মানসিকভাবে তারা যেন ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তার জন্য মনোযোগী হউন।